শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৫ অপরাহ্ন
আদালত প্রতিবেদক, ঢাকা ॥
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৯ এপ্রিল নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পূর্বনির্ধারিত তারিখ থাকলেও তদন্ত সংস্থা সিআইডি (অপরাধ তদন্ত বিভাগ) প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া
এই ঘটনায় গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। প্রাথমিকভাবে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা হলেও ওসমান হাদির মৃত্যুর পর গত ২০ ডিসেম্বর আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলায় ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আদেশ দেন।
নারাজি আবেদন ও সিআইডিকে দায়িত্ব প্রদান
এর আগে গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছিলেন। তবে ডিবির দেওয়া ওই তদন্ত প্রতিবেদনে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী আদালতে ‘নারাজি’ আবেদন দাখিল করেন। আদালত বাদীর আবেদন গ্রহণ করে মামলাটির অধিকতর তদন্তের ভার সিআইডিকে দেন।
আসামিদের বর্তমান অবস্থা
ডিবির দাখিল করা চার্জশিটে মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে বর্তমানে ১১ জন কারাগারে রয়েছেন এবং বাকি ৬ জন এখনো পলাতক। মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন:
মূল অভিযুক্ত: প্রধান শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ।
সহযোগী ও অন্যান্য: আলমগীর হোসেন, মিরপুরের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফিলিপ স্মাল পিলিপস, মুক্তি আক্তার এবং ফয়সালের বোন জেসমিন আক্তার।
কারাগারে আটক স্বজন: প্রধান অভিযুক্ত মাসুদের বাবা মো: হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা এবং শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু।
তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিআইডির হাতে এখন ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত সময় রয়েছে। ন্যায়বিচারের আশায় ওসমান হাদির পরিবার ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যবৃন্দ এখন আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন।